যামিমাং পুষ্পিতাং বাচং প্রবদন্ত্যবিপশ্চিতঃ।
বেদবাদরতাঃ পার্থ নান্যদস্তীতিবাদিনঃ।।৪২
কামাত্মানঃ স্বর্গপরাঃ জন্মকৰ্ম্মফল প্রদাম্।
ক্রিয়াবিশেষ বহুলাং ভোগৈশ্বর্য্যগতিং প্রতি।।৪৩
ভোগৈশ্বর্য্য-প্রসক্তানাং তয়াপহৃতচেতসাম্।
ব্যবসায়াত্মিকা বুদ্ধিঃ সমাধৌ ন বিধীয়তে।।৪৪
তাৎপর্য্য: হে পার্থ। যাহারা কেবলমাত্র বেদের ভাষানুযায়ী অর্থবাদে তুষ্ট থাকে, সেই ব্যক্তিরা স্বর্গলোক, বিষ্ণুলোক, ব্রহ্মলোক ইত্যাদি প্রলোভন স্বরূপ সকাম নানাপ্রকার ক্রিয়া-কলাপের অনুষ্ঠানে রত করায় এবং বলিয়া থাকে- ইহাই মুখ্যকর্ম, ইহা ব্যতীত আর কিছুই নাই। এইরূপ আপাত-রমণীয় নানা প্রকার পুষ্পিত বাক্যে যাহাদের চিত্ত অপহৃত হয়, তাহারা সকামকর্মে এবং ভোগৈশ্বর্য্যে আসক্ত হইয়া পড়ে।
নিষ্কাম যে প্রাণকৰ্ম্ম তাহা একেবারে ভুলিয়া যায়; এমন কি ঐ আত্মকর্মের কথাতেও ভয় পাইয়া থাকে। সেই সকাম ব্যক্তিদের যে ব্যবসায়াত্মিকা বুদ্ধি, সে বুদ্ধি সমাধির যোগ্য নহে; অর্থাৎ কাম্যকৰ্ম্ম দ্বারা সমাধি হয় না; নিষ্কাম যে প্রাণকর্ম, তাহার দ্বারাই সমাধি হইয়া থাকে। গুরুর উপদেশ মত প্রথমে ১২টি উত্তম প্রাণকর্ম দ্বারা মনের একাগ্রতারূপ প্রত্যাহার হইয়া থাকে এবং সেই প্রত্যাহার বদ্ধমূল হইলে ধারণা হয়। ধারণা বদ্ধমূল হইলে ধ্যান এবং ঐ ধ্যান বদ্ধমূল হইলে সমাধি হয়। প্রথমে ১২টি উত্তম
প্রাণকর্ম দ্বারা একাগ্রতা হইলে শব্দাদিবিষয় সমুদায়ের আসক্তি রহিত করিয়া যোগবিদ্ চিত্তকে অন্তর্মুখ করিয়া (ক্রিয়ার পরাবস্থায় মনোনিবেশ করিয়া) প্রত্যাহারপরায়ণ হইবেন (শব্দদিঙ্গনুরক্তানি নিগৃহ্যাক্ষাণি যোগবিৎ। কুৰ্য্যাচ্চিত্তান্তকারীণি, প্রত্যাহারপরায়ণঃ।।)। পরে ১৪৪টি উত্তম প্রাণকর্মে ধারণার অভ্যাস হয়; ধারণা অর্থাৎ স্থিরতা; চিত্তকে বিষয়ান্তর হইতে নিগৃহীত করিয়া আজ্ঞাচক্রে স্থিররূপে ধারণ করাই ধারণা। এই স্থিতি হৃদয়ঙ্গম করিয়া স্থিরপ্রাণকে স্মরণে রাখার নামও ধারণা। পরে ১৭২৮ উত্তম প্রাণকর্মে ধ্যানাবস্থা প্রাপ্তি হইয়া থাকে। ধ্যান অর্থাৎ চিন্তা, বাহ্য চিন্তা ত্যাগ করিয়া নিয়ত স্থিরপ্রাণরূপ ধ্যেয় বস্তুর চিন্তায় মগ্ন অবস্থাকেই ধ্যান কহে। তাহার পর ২০৭৩৬ বিশ হাজার সাতশত ছত্রিশ উত্তম প্রাণকৰ্ম্ম অবিচ্ছেদে করিলে সমাধি হইয়া থাকে। সমতাবস্থাই সমাধি; প্রাণকর্ম দ্বারা প্রাণবায়ুর সাম্যাবস্থারূপ স্থিরভাব হইলে । ইহাই কর্ম্মের অতীতাবস্থা]
কর্ম্মের অতীতাবস্থারূপ স্থির ব্রহ্মে যুক্ত হওয়ারূপ সমাধি হইয়া থাকে (ইহা নিজ-বোধরূপ অবস্থা); এই সমাধি সকাম ব্যক্তিগণ প্রাপ্ত হয় না; যেহেতু তাহাদের বুদ্ধি বহু কামনাযুক্ত থাকায়, তাহারা সেই কামনাতেই জড়িত হইয়া থাকে।।৪২-৪৪।।

