শ্রী শ্রীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়

…শ্রীপুরে একটি সাংঘাতিক রোগী দেখিতে নরেশ বাবু আমাকে (শ্রী শ্রীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়) লইয়া যান। গিয়া দেখি, রোগীর সাংঘাতিক অবস্থা। একটা ব্যবস্থা করি, কিন্তু অবস্থা খুব খারাপ, এমন কি চক্ষু রক্তবর্ণ, লোক চিনিতে অক্ষম, ফুসফুস প্রদাহ মাড়ীর ও শ্বাসের অবস্থা মন্দ থাকায় তাহার পরের দিনে আবার যাইবার কথা।

ঐ দিন সন্ধ্যাকালে কোম্পানীর ডাক্তার রোগী দেখিয়া ভয় পান, এমন কি বিনোদ বাবু L. M. S. ডাক্তারকে দেখান উচিত। তাহাই স্থির হয়, পরদিন বিনোদ বাবুকে আনা হইবে।

ঐ রাত্রি সাড়ে বারোটা একটার সময় অর্ধ নিদ্রা অবস্থায় আছি, বাবা (পন্ডিত পঞ্চানন ভট্টাচার্য), আসিয়া বলিলেন, শ্রীশ বাবু! শ্রীপুরের রোগীটি ‘দেখিতে চলুন। আমরা, ‘উভয়ে শূন্যে শূন্যে গমন করিয়া নরেশ বাবুর ছাদে নামিলাম। ঠাকুরের হস্ত সংস্পর্শে রোগীর ঘরের কপাট ‘খুলিয়া গেল। দেখি ঘরের মধ্যে আলো, জ্বলিতেছে, রোগী লইয়া চারিটা লোক গাত্রে লেপ দিয়া শয়ন করিয়া আছে। আমরা দুইজন ঘরে প্রবেশ করিয়া যখন রোগীর কপালে হস্ত দেওয়া হইল, তখন আমি যেন বাবা হইয়াছি।

আমি একাকী রোগীর ‘কপালে হাত দিয়া চলিয়া আসিলাম, কবাট বন্ধ হইয়া গেল। প্রাতে যাইয়া দেখি রোগীর সাংঘাতিক অবস্থা তিরোহিত, একেবারে নাড়ি ভাল, জ্বর আরো কম, পনের ষোল দিনের রোগী আমাকে ও কোম্পানীর ‘ডাক্তারকে চিনিলেন, চক্ষুর রক্তবর্ণ তিরোহিত হইয়াছে।

আমি নরেশ বাবুকে কহিলাম, কল্য-একটা রাত্রির সময়ে এ ঘরে কয়জন শুইয়াছিলেন? তিনি বলিলেন, চারিজন। কিন্তু অবাক হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন; কেন শ্রীশ বাবু ব্যাপার কি? আমি গোপন করিলাম। বলিলাম, আমাকে আর আসিতে হইবে না। আপনার ছেলে সারিয়া গেল।

কোম্পানীর ডাক্তার তো অবাক! বলিলেন, দাদা, ব্যাপার কি? যাহাকে গত সন্ধ্যার সময়ে হতাশ রোগী মনে করিয়া উদাস মনে বাটী যাইলাম, সেই রোগী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আরোগ্য উন্মুখ, ব্যাপার কি? আমি বলিলাম, ভৌতিক বিশ্বাস করেন? তিনি বলিলেন করি। আশ্চর্য ঘটনা!

শ্রী ঈশানীতোষ চট্টোপাধ্যায় প্রণীত যোগ জীবন গ্রন্থের
সাধন ও আত্ম-বিভুতি দর্শন পর্ব হইতে গৃহীত।
বিষয়টি ভালোভাবে পাঠ করিলে ইহা হইতে বুঝা যায় যে ক্রিয়া যোগীরা অবলীলায় তথাকথিত আকাশ গমন করা হইতে প্রায় মৃত ব্যক্তিদেরও জীবন দান করিতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!