স্পর্শান্ কৃত্বা বহির্ব্বাহ্যাংশ্চক্ষুশ্চৈবান্তরে হুবোঃ। প্রাণাপানৌ সমৌ কৃত্বা নাসাভ্যন্তরচারিণৌ।।২৭

যতেন্দ্রিয়মনোবুদ্ধিমুনির্মোক্ষ পরায়ণঃ। বিগতেচ্ছাভয়ক্রোধো যঃ সদা মুক্ত এব সঃ।।২৮

রূপ-রসাদি বাহ্য বিষয় সকল বাহিরেই রাখিয়া (বিষয় সকল চিন্তিত হইলে মনে প্রবেশ করে, মনঃস্থৈর্য্য দ্বারা সে সকলকে মনে প্রবেশ করিতে না দিয়া) চক্ষুকে ভ্রূদ্বয়ের মধ্যে রাখিয়া (ভ্রূদ্বয়ের মধ্যে দৃষ্টি রাখিয়া) নাসাভ্যন্তরচারী (প্রাণায়াম দ্বারা বায়ু স্থির হইলে প্রাণ ও অপানের উর্দ্ধাধোগতি স্বতঃ রহিত হওয়ায় তাহারা কেবল নাসামধ্যেই সঞ্চরণ করে এবং বাহিরের বায়ু বাহিরে ও ভিতরের বায়ু ভিতরেই থাকে এইরূপ) প্রাণাপান বায়ুকে সমান করিয়া ইন্দ্রিয়, মন ও বুদ্ধির সংযমকারী, মোক্ষ-পরায়ণ, ইচ্ছা ভয় ও ক্রোধ শূন্য যে মুনি, তিনি সদা (জীবিত থাকিয়াও) মুক্ত।।২৭-২৮৷৷

তাৎপর্য্য।-চিন্তাজনিত উদ্বেগ-বশেই বিষয় সকল মনে প্রবেশ করে; মনঃস্থৈর্য্য দ্বারা রূপ-রসাদি বিষয় সকলকে মনোমধ্যে প্রবেশ করিতে না দিয়া, ঐ সকলকে মনের বাহিরে রাখিয়া এবং উভয় ভ্রূর মধ্যস্থলে (ললাটাভ্যন্তরে) দৃষ্টি রাখিয়া, যিনি নাসাভ্যন্তরচারী হন, অর্থাৎ প্রাণকর্ম দ্বারা বায়ু স্থির হইলে প্রাণ ও অপানে ঊর্দ্ধাধোগতি স্বতঃ রহিত হইয়া প্রাণবায়ু কেবল মাত্র নাসামধ্যেই সঞ্চরণ করে এবং বাহিরের বায়ু বাহিরে ও ভিতরের বায়ু ভিতরেই অবস্থিত থাকে, এইরূপ (প্রাণ ও অপানবায়ুকে সমান করিয়া) যে মুনি নাসাভ্যন্তরচারী হন এবং মন, বুদ্ধি ও ইন্দ্রিয়গণকে বশীভূত করেন, ভয় ও ক্রোধকে দমিত করিয়া ভয়-ক্রোধশূন্য হন ও ইচ্ছা-রহিত হইয়া মোক্ষপরায়ণ থাকেন, এরূপ হইয়া মুনি যিনি, তিনি সদাই মুক্ত অর্থাৎ জীবিত থাকিয়াও মুক্ত (জীবন্মুক্ত)।।২৭-২৮।।

বহু দিন থেকেই ইচ্ছে হচ্ছিল যে সুরধূণী মায়ের গীতা ব্যাখ্যা আপনাদের সামনে তুলে ধরব। গুরু ইচ্ছায় আজ তা সম্ভব হলো। এই একটি শ্লোকের ব্যাখ্যাতেই সম্পূর্ণ গীতার ব্যাখ্যা বোধগম্য হতে পারে।সুরধূণী দেবী প্রণীত শ্রীমদ্ভাগবত গীতা থেকে আংশিক উদ্ধৃত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!